· কবিতা ·

শেষ মাইল-ফলক… দৃশ্যমান শহর

মানস পাল

১) আলোছায়া ঘরের সন্মুখ দেয়ালে এর থেকে চোখ ফেরানো যাবে না মাথার পেছনে ঠেকানো আছে ঘাতকের পিস্তল বাড়ীর পিছনের আপাতঃ অদৃশ্যমান উঠোনে অবশিষ্ট আলোয় হাওয়ায় দুলছে কতিপয় গাছ তারই ছায়া সন্মুখ দেয়ালে আকিঝুকি কাটছে আমি বুঝতে চাইছি স্মৃতি হাতড়ে কোনটা কোন গাছ, জানার আগেই ঘর আলোকিত, ছায়ারা পলাতক ঘাতক কোথায় - ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি বাইরে অন্ধকার নামছে ২) প্রতীক্ষায় স্তব্ধ গোটা হল বাদকেরা যার যার বাদ্যযন্ত্রে হাত রেখে স্টেজে অপেক্ষামান বেহালার ছড়া কোণোকুনি ঘোষক ভূমিকা রেখে চলে গেছে, মাইক্রোফোন স্থির দণ্ডায়মানঃ একটা সম্পূর্ণ স্থির চিত্র তোমারই অপেক্ষা শুধু উইং ধরে কখন আসবে তুমি— স্বপ্নের চামড়ায় মোড়া মাদল উঠলো বেজে তুমি এলে। তোমার অবয়বে স্টেজের আলোছায়ার করুন কারুকাজ প্রথম শব্দ সঙ্গীত এখন চালচ্চিত্রে ধরা হবে পাশে এক রাগরাগিণীর ঘর, তারও ওপাশে অভিমানের দরোজা, নিঃশব্দে খুলে আমি বাইরে আসি - মন্থর সন্ধ্যা নামছে বাজার চত্বরে মাংসের দোকানে ভিড় বাড়ছে আমি সন্তুর পানের দোকানের দিকে রাস্তা পাড় হই কে জানতো ঘাতক দুর্দান্ত বেগে লরি নিয়ে আসছে ৩) স্বপ্নে আধো আছো, আছো আধো তুমি চেতনায়, মৃত্যুমুখে পতনের আগেও ছিলে, থাকবে কি ওপারেও প্রাণবন্ত লয় রাস্তা পড়ে রয়েছে নর্দমার আলিঙ্গনে রক্তের পলেস্তরার উপরে বারংবার হাতবদলে বানানো কালো পিচ রাত্রির অন্ধকারে একুশ কোটি তারকার প্রহরায়ও ছায়াছন্ন সেই পথ তারই উপরে লরি চাপা আমি ক্ষতবিক্ষত হামাগুড়ি দিচ্ছি লক্ষ্য সামনের বাঁক তার ওপারে আমার জানা নেই কি অপেক্ষা করছে আপাততঃ মৃত্যু ভাবনাকে ছাপিয়ে তেড়ে আসছে অবশ্যম্ভাবী আর নিকটস্ত মৃত্যু ভয়..