· কবিতা ·

ট্রেন যাত্রা ও প্রত্যাবর্তন

মানস পাল

১) একাকার পুকুরের পাড় এই দুঃখ যাত্রার কোন গন্তব্য নেই, না ছিল কোন মধ্যবর্তী স্টেশন এখানে চা-গ্রম, ঝাল-মুড়ি, ডিম-ডিম বলে কেউ গা-ঘেসে পা-মাড়িয়ে যাবে না কখন ট্রেনের জানালা থেকে গ্রাম ছাড়া রাঙ্গামাঠির পথে কখনো কিছুই হবে না দৃশ্যমান — আমি কোথা হতে, কোথা যাবো হয় নি যে কখনো নির্ধারণ — বন্যায় তলিয়ে যাওয়া গ্রামের পর গ্রাম - তারও মধ্যে তুমি কলসিতে জল নেবে একাকার পুকুরের পাড়ে মোদ্দা কথায় কখনো জানা হবে না তোমাকে- এই দুঃখ যাত্রার কোন গন্তব্য নেই, না ছিল কোন মধ্যবর্তী স্টেশন ২) ট্রেন আসবে , দিকচক্রবালে গন্তব্য আমরা ভান করছি কেউ কাউকে চিনিনা শেষের স্টেশনে আমাদের সবাইকেই নামতে হবে তখোন না চেনার ভান করা যাবে না ছোট্ট শহর হয়তো একই হোটেল অবস্থান আমাদের আর তার মুখের অবয়ব ছিল এক শ্লেট আমি সারাটি রাত সেখানে আকিঝুকি করেছি আমি হোটেলের বারে বিয়ার নেয়ার নামে বসবো তার পাশে সে তাকে আমি অবশ্যই আপন করে নেবো, নেবোই মানুষেরা কার্ত্তিকের সাময়িক মাঠে এক সাথে থাকতে ভালবাসে অতঃপর স্বগৃহে নিঃসঙ্গ বলয়ে ঘুরপাক, সাথে দু'মুটো সংসার আর কবিতারা একমাত্র দোসর ৩) এখন নিজস্ব ভুবন এ এক নিজস্ব ভূবন আলো অন্ধকার কিছুই নেই এখানে ঘুম নেই - স্বপ্ন কোথায় দুঃখেরা দানা বাধে, সুখেরা মেঘের মধ্যে উড়ে যায়, সূর্য তখোন তোমার উঠোনে উবু হয়ে পড়ে থাকে জ্বলন্ত বলয় হয়ে ফিরে আসে বাতাসে ফিরে, ছাই হয়ে বলে কোথায় রাখবো তোমাকে কোথায়, কার্পাশের শ্বেতে নাকি অনন্য চুম্বনের বরফে